দুই দশক পেরিয়েও অম্লান সেই করুণ প্রেমকাহিনী

221

শোবিজ ডেস্ক: মিলনের চেয়ে বিরহেই প্রেম বেশি স্বার্থক। এটি কবিগুরু রবি ঠাকুরের অমৃত বাণী। তার মতো আরও বিশ্ব নন্দিত অনেক মহাপুরুষেরাই এই বাণীকে সমর্থন দিয়েছেন। অনেকেই হয়তো ভেবে থাকবেন প্রেমে ব্যর্থরাই এমন সংলাপ দিয়ে থাকেন।

তর্ক-বিতর্ক চলতেই পারে এ নিয়ে। তবে পাল্লাটা ভারী হবে বিরহের পক্ষেই সেটা অনুমান করা যায়। কারণ ভালোবেসে বিচ্ছেদের আগুনে দগ্ধ হবার সংখ্যাই পৃথিবীতে বেশি। বিচ্ছেদের এই হাহাকার আছে বলেই প্রেম নিয়ে এত কথা, এত কাব্য-চর্চা-বিশ্লেষণ।

চলচ্চিত্রেও প্রেম এসেছে দারুণভাবে। যুগে যুগে অনেক সিনেমাই প্রেমে-রোমান্টিকতায় দর্শকের মন ছুঁয়ে গেছে। সেইসব ছবির তালিকায় অন্যতম এক নাম ‘টাইটানিক’। ১৯৯৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর মুক্তি পায় জর্জ ক্যামেরন পরিচালিত এই চলচ্চিত্র। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ছবিটির দুই দশক পেরিয়েছে। সেই ছবি এখনও দর্শকের মনে সমানভাবে জনপ্রিয়।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও দর্শকনন্দিত ছবি হিসেবে স্বীকৃত ‘টাইটানিক’। সামাজিক বিচারে একটি অসম প্রেমের করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে এই ছবিতে, সেটা যে কারোর মনে দাগ কেটে যায়। মুক্তির কয়েক বছর পর্যন্ত ছবিটি আলোচনায় ছিলো বিশ্ব জুড়ে।

কী কারণ? বিরাট দানবাকৃতির জাহাজ ডুবে যাওয়া নাকি শত শত মানুষের অকাল মৃত্যু? নাকি একটি কোমল প্রেমযুগলের করুণ পরিণতিই ছবিটিকে আলোচ্য করে তুলেছিলো? উত্তরটা হয়তো সহজ নয়। তবে মেনে নেয়া যেতে পারে ‘জ্যাক’ ও ‘রোজ’ নামের দুটি চরিত্রের করুণ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রেমের ট্রাজেডিক পরিণতি দর্শকের হৃদয় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলো।

এই ছবির মুক্তির পরবর্তী অনেক কবিতা-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রেও উঠে এসেছে টাইটানিকের প্রেম কাহিনীর আবেদন।

আনসিংকেবল জাহাজ আরএমএস টাইটানিকের প্রথম যাত্রায় ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘টাইটানিক’ সিনেমা। তবে সব কিছু ছাপিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেয় জ্যাক ও রোজের অসাধারণ প্রেম ও তার করুণ পরিণতি। আজও দর্শকের মনে শিহরণ জাগায় এই ছবিতে দুই প্রেমিক-প্রেমিকা।

জেমস ক্যামেরন পরিচালিত ‘টাইটানিক’ ছবির মূল দুই চরিত্র জ্যাক ও রোজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং কেট উইন্সলেট। ২০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বাজেটের সিনেমাটি আয় করে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার।

ছবিটি মুক্তির পর অস্কারে সর্বোচ্চ ১৪টি মনোনয়ন এবং সর্বোচ্চ ১১টি অস্কার অর্জনের বিরল রেকর্ড গড়ে। দুই দশক পেরিয়ে আজও ভালোবাসা দিবসের মতো দিনগুলোতে তাই সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহে থাকে ‘টাইটানিক’।

আপনার মন্তব্য দিন