ভক্তদের প্রতি সিয়ামের ভালোবাসা সবকিছুর ঊর্ধ্বে

শোবিজ প্রতিবেদক: ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‌‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমাটি। শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ছবিটি। ছবিতে প্রথমবারের মত জুটি বেঁধে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ ও পরীমনি।

সিনেমার ক্যারিয়ার খুব বেশি না হলেও অল্প সময়েই দর্শক হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন সিয়াম। এখন পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া তিনটি ছবিতেই নিজেকে ভেঙেছেন। এই সময়ে ব্যস্ত থাকা তিন ছবিতেও নিজেকে দর্শকদের জন্য হাজির হবেন নতুনত্ব নিয়ে। প্রতিটি ছবিটির জন্য নিজেকে তৈরি করেছেন ভিন্নভাবে। নিজেকে ভিন্নভাবে হাজির করতে এরমধ্যে ত্যাগ করেছেন অনেক কিছু, যার কিছু অনেকের জানা কিন্তু অনেকটাই রয়েছে অজানা।

বেশ কিছুদিন আগে বিশ্বসুন্দরী ছবির এক লটের শুটিং হয় বান্দরবানের নীলগিরিতে। সেখানে সবার মত করে অংশ নেন সিয়ামও। কিন্তু সেসময় দেখা যায় সিয়ামের চোখে পানি। ছবির আরেক অভিনয়শিল্পী আনন্দ খালেদ সিয়ামের পাশে এসে বসেন। সিয়ামের ফোন অনবরত বেজে চলে।

জানা যায়, সে মূহুর্তে সিয়ামের স্ত্রী অবন্তী তখন হাসপাতালে ভর্তি। তার জরুরি একটি অপারেশন হবে। ফোনের ওপর প্রান্তে সিয়ামের বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি। বাড়ির সবাই অনুরোধ করে জানান, বাবা চলে এসো। অবন্তী তোমাকে খুঁজছে।

কিন্তু তখন বুকে পাথর বেধে সিয়াম পরিবারকে জানান, আমি যদি এখন ঢাকা ফিরে আসি, নীলগিরির এই শুটিং পুরোপুরি ভেস্তে যাবে। কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হবে ইউনিটের। সমালোচনা হবে। আমাকে তোমরা ক্ষমা করো। যত দ্রুত সম্ভব শুটিং শেষ করে আমি চলে আসবো।

ফোন রেখে সিয়াম নিথর হয়ে বসে থাকে। তার মন পড়ে থাকে ঢাকায়, স্ত্রীর কাছে। কিন্তু পেশার খাতিরে লাইট জ্বলে ওঠার পর ক্যামেরায় তাকিয়ে হাসিমুখে সংলাপ দিতে হয়।

শুধু তাই নয়, ভক্তদের প্রতি সিয়ামের ভালোবাসা সবসময়ই সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল। তার পরিচয় আরেকবার পাওয়া যায় নরসিংদীতে বিশ্বসুন্দরী সিনেমার প্রথম লটের শুটিংয়ে।

নরসিংদীতে ‘বিশ্বসুন্দরী’র শুটিংয়ের সময় প্রতিদিন মানুষের ঢল নেমেছিল শুধু সিয়ামকে এক নজর দেখতে। একদিন দেখেন, ৬ বছর বয়সী একটা বাচ্চা মেয়ে একা এক কোণে বসে কাঁদছে। কারণ কি?-জানতে চাইবার পর মেয়েটি বলে ভিড়ের কারণে সে নায়ক সিয়ামকে দেখতে পারেনি। সিয়ামকে না দেখতে পারলে মেয়েটি বাড়িতে ফিরবে না। আনন্দ খালেদ এই বার্তা সিয়ামের কানে পৌঁছে দেয়া মাত্রই সিয়াম সব কিছু ফেলে ছুটে এসে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেছিল। আদর করেছিল। মেয়েটির চোখে মুখে তখন যে আনন্দ চিকচিক করে জ্বলছিল, তা লাখ টাকা দিয়েও কেনা যাবে না। ভালোবাসাগুলো এমনই হয়।

সান মেশন পিকচার্স প্রযোজিত ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবিটির গল্প ও সংলাপ লিখেছেন রুম্মান রশীদ খান।

আপনার মন্তব্য দিন