ভীষণ এক কঠিন সময়ের ভিতরে শিল্পাঙ্গন : পুতুল

সারা বিশ্বে এখন এক মহা আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশেও এই ভাইরাস সনাক্ত হয় গত মার্চে। এরপর আক্রান্তের সংখ্যা বেরে যাওয়ার সম্ভাবনায় সারাদেশে শুরু হয় সাধারণ ছুটি। কিন্তু এতো কিছুর পরেও সহসা কমছেনা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এদিকে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে চলতি মাস থেকে সিথিল করা হয় লকডাউন। টানা আরাই মাসের লকডাউনের পর জুন মাস থেকে সব কিছু খুলে দেওয়া হলেও সেই আগের অবস্থায় ফিরতে পারছেনা অনেকেই।  বলতে গেলে অনেকেই একরকম বেকার জীবনই অতিবাহিত করছেন। দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। এর ছাপ পরেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। অনেকেই আছেন যাদের বাসায় বৃদ্ধ মা-বাবা আছেন এবং নানা শারীরিক জটিলতায় রয়েছে। তাঁদের কথা চিন্তা করে অনেকেই সেই আগের মতো কাজে যেতে পারছেন না। যার ফলে এ ধরনের পরিবার গুলো পরেছেন দারুন অনিশ্চয়তায়। দেশের এমন পরিস্থিতিতে অনেক শিল্পীদেরই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা দেখা দিয়েছে। দেশের সংগীত শিল্পীদের অবস্থাটা আরো কষ্টেরই বলা চলে। কারন স্টেজ-শো, কনসার্ট সবই রয়েছে বন্ধ। এমনকি কবে এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে মানুষ তা কারো জানা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সাজিয়া সুলতানা পুতুল তার ফেইসবুকে একটি স্টাটাসে লিখেছেন-

“ভীষণ এক কঠিন সময়ের ভিতরে শিল্পাঙ্গন। অনেকেই সংগীত জগতটার এতো বড় বিপর্যয় এর আগে দেখেন নি। শিল্পীদের উপার্জন বন্ধ হয়েছে তিন মাস আগেই। সহসায় উপার্জন শুরুর সম্ভাবনা অলীক কল্পনা। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী চলতে গেলে আগামী আরো অনির্দিষ্ট একটা সময় কনসার্ট হবে না, তা বুঝতে পারছে শিল্পীরা। চ্যানেলের কাজ সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু আমার বাবা মায়ের মতো যাদের বাবা মা বৃদ্ধ এবং নানান শারীরিক জটিলতায় রয়েছেন, তারা এখনো বাড়িতেই অবস্থান করছি। বাইরে যাওয়া বর্জন করছি। বিনোদনের নতুন এক মাত্রা যুক্ত হয়েছে এই মহামারীতে। মূলস্রোতের বিনোদনের বিকল্প পন্থা বলা যায়। অনলাইন আড্ডা এবং গানের আসর। করেছি শুরুর দিকে, কারো অনুরোধ উপেক্ষা করি নি। যতো বড় পেইজই হোক, যতো ছোট গ্রূপই হোক চেষ্টা করেছি কাউকে ফিরিয়ে না দিতে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তখনও বুঝে উঠি নি আমরা। ভেবেছি, এইতো একটা মাসের লক ডাউন, এরপর তো কাজে ফিরবোই। কিন্তু যতো দিন গড়ালো ততো আমরা বুঝলাম, এ সঙ্কট দ্রুত শেষ হবার নয়। এ সঙ্কট নানামুখী সঙ্কট। তার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কটটা প্রকট হতে লাগলো দিন দিন। মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কটটাও আবার নানামুখী। তার মধ্যে একটা হলো, কর্মহীনতা এবং উপার্জনের অনিশ্চয়তা। তাই একটা পদক্ষেপ নেয়া যৌক্তিক বলে মনে করি। অনলাইনে যে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার বিষয়টি কেবল তখনই হবে, যখন সেখানে শিল্পী সম্মানী থাকবে। এখন থেকে সম্মানী ছাড়া কোনো অনলাইন-আয়োজনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকবো। যাঁরা বিভিন্ন পেইজে, গ্রূপে লাইভ গাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছেন তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। গানটা কিন্তু পেশা, সহায়ক কোনো পেশা নয়, মূল পেশা। শিল্পীরা এই সঙ্কট সময়ে শ্রোতার বিষণ্ণতা কাটাতে গাইবেন, কিন্তু শিল্পীকেও যে দিন শেষে বিষণ্ণতা গ্রাস করতে পারে, তা ভুলে গেলে কি করে চলবে?

এই একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতাঙ্গনের আরো বেশ কিছু শিল্পী। বিভ্রান্তি এড়াতে নামগুলো দিলাম:

রফিকুল আলম,আবিদা সুলতানা,তপন চৌধুরী, লিনু বিল্লাহ,এস আই টুটুল,দিনাত জাহান মুন্নী, ফরিদ আহমেদ,বাদশা বুলবুল, মুহিন খান, পারভেজ সাজ্জাদ, ইবরার টিপু – সাজিয়া সুলতানা পুতুল, সাব্বির জামান, রোমানা ইসলাম ,সালমা আক্তার, নিশীতা বড়ুয়া, আলম আরা মিনু,শেখ জসীম ,প্রতীক হাসান ,কিশোর দাস, পুলক অধিকারী, গামছা পলাশ, নোলক বাবু, সাবরিনা সুলতানা বাধ্ণ, ঝিলিক, অনিমা রায় , অপু আনাম ,রাশেদ, মোল্লা বাবু, টুটুল, সানিয়া সুলতানা লিজা, লুইপা,পিন্টু ঘোষ , সুকন্যা,আতিক, পরান, শেফালী,মেহরাব, রন্টি, নওরীন, বিউটি, রাজিব, দিঠি আনোয়ার , হুমায়রা,অদিতি আর্শি, মাহাদী, লায়লা, সোহাগ, খালেদ মুন্না, স্বীকৃতি, বেলাল খান,বিন্দু কনা,আশিক, বৃষ্টি, হৈমন্তী রক্ষিত,মৌসুমি মৌ,নাজু আখন্দ,সুজন আরিফ,হানিফ,দীপুআসলাম,অমিত,পৃথিল,অবন্তী সিথি,শিশির,প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস,স্মরণ,এম আই মিঠু,নাদিম ভূইয়া.শান সায়েখ,চম্পা বনিক,রেশমী মির্জা, কর্নিয়া, মাসুম, মাহববুর রহমান সবুজ, তানজিনা রুমা, অনুপমা মুক্তি, সুমি মির্জা, বেলি আফরোজ, মুন, নির্ঝর চৌধূরী, সায়নী, রাজা বশীর, লেমিস, সুস্মিতা, মম, মুনির বাউলা, জুয়েল মোর্শেদ,আর্নিক, প্রমিত , আজমীর বাবু, পলাশ চক্রবর্তী, পল ,নয়ন, রতন , কিসলু,ঐশী, মানিক , তানবীর দাউদ রনি, মমিন বিশ্বাস,স্বন্দিপন, জাহিদ, শফিক তুহিন, খায়রুল ওয়াসী, আহমেদ হুমায়ুন,রাজন সাহা।

সবাই নিরাপদে থাকুন,
ধন্যবাদ

 

সজল //SBD24

 

আপনার মন্তব্য দিন