মুক্ত আকাশে মেলে ডানা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে শীত। তারই আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে অগ্রহায়ণ। কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে রোজ সকালে উকি দেয় সূয্যিমামা। গাছের পাতায়ও পড়েছে বিবর্তনের হাওয়া। হেমন্তের হিম হিম হাওয়া আর ঘাসে শিশির পড়া শুরু হয়ে গেছে সেই কবে। সন্ধ্যার রক্তাক্ত সূর্যটা তারই জানান দেয় বারবার। ইট-পাথরের ব্যস্ত এই শহরে ক’জনই বা তার খোঁজ রাখেন। খোঁজ রাখার দলে আর কেউ না থাকলেও আছেন সংগীতিশিল্পী পড়শী।

তার ভাষ্য, ‘শীতের সময়গুলো আমার খুব ভালো লাগে। ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে প্রকৃতির খুব কাছে।’

গানের পড়শী শীতের সময়গুলো ধরে রাখতে চান তার নিজের মতো করে। তাই তো তিনি রঙতুলিতে বন্দী করেন গ্রাম-বাংলার অপরূপ দৃশ্য। রঙ নিয়ে খেলা করা পড়শীর বহুদিনের নেশা। তার আঁকা অসংখ্য ছবির ঠিকানা হয়েছে ঘরের দেওয়ালে। খুব শিগগিরই তিনি প্রদর্শনীর মাধ্যমে এটি নিয়ে আসবেন সবার সামনে।

পড়শীর আরও একটি নেশার কথা হয়তো অনেকের অজানা। বাগানের প্রতিও রয়েছে তার দারুণ ঝোঁক। তাই তো নিজ বাড়ির ছাদের উপর তিনি গড়ে তুলেছেন ছাদ বাগান। যেখানে অনেকটা সময় পার করেন তিনি। গাছপালার প্রতি পড়শীর দুর্বলতা অনেক বেশি। তাই তো কারণে-অকারণে ছুটে যান বাগানে।

পড়শীর বলেন, ‘ঘরের চার দেওয়ালে বন্দী থাকতে আমার ভালো লাগে না। আমার কাছে মনে হয় ছাদটাই বেস্ট। শুধু আমার বাসার ছাদই না, যে কোনো ছাদই আমার পছন্দের। আর সেটি যদি হয় গোছানো তবে তো কোনো কথাই নেই। আমি আমার বাড়ির ছাদের উপর বিশাল বাগান করেছি। অবসরের বেশির ভাগ সময়ই আমি সেখানে কাটাই। ছাদে একটা মিনি চিড়িয়াখানও আছে। আগে অনেক পাখি ছিল সেখানে। কিন্তু বন্দী জীবন আমার পছন্দ না। তাই সব মুক্ত করে দিয়েছি। অনেক পাখি এখনও আমার বাগানে আসে। আবার সন্ধ্যার পর তারা ফিরে যায় তাদের ঘরে।’

ছাদ পড়শীর ভালো লাগার আরও একটি কারণ আছে। গলা ছেড়ে গান গাওয়া কিংবা রাগ করে বসে থাকা সবই হয় সেখানে। মুচকি হেসে পড়শী বলেন, ‘আসলে আমি রাগ করলে একা থাকতে পছন্দ করি। তাই ছাদে চলে যাই। সেখানে কিছুক্ষণ থাকলে এমনিতেই মন ভালো হয় যায়। অনেক নতুন গানের কথাও বুনি ছাদে বসে। প্রায়ই অনেক রাত পর্যন্ত ছাদে আড্ডা দেওয়া হয়।’

পড়শীদের সঙ্গে পড়শীর সম্পর্ক পরিবারের সবার থেকে বেশি। তার বাসায় প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা জমে ওঠে। এ বিষয়ে পড়শী বলেন, ‘শহুরে জীবন বা যারা ফ্ল্যাটে থাকেন, তারা আশপাশের মানুষগুলোর খোঁজ খুব একটা রাখেন না। এমনটা আমার পছন্দ না। আমি যে বাড়িটিতে থাকি, প্রথম দিকে দেখতাম সবাই নিজের মতো চলাফেরা করছে। কেউ কারও খোঁজ রাখেন না। আমি আমার পাশের ফ্ল্যাট, উপরে, নীচে সবার বাসার গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করলাম। সমবয়সীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলাম। এভাবেই আমি পুরো বাড়ির পরিবেশটা পাল্টে দিলাম। আমার মিলে একটা ইউনিটি তৈরি করলাম। আমরা এখন একটি পরিবার হয়ে সবাই মিলেমিশে বসবাস করছি। শুধু আমার বাড়ির লোকজনই নয় পাশের বাড়ির সঙ্গেও আমাদের সম্পর্কটা বেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাতে আমার সবাই মিলে বাড়ির নীচে নামি। বাড়ির আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেই। সবাই মিলে গরিব ও দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করি।’

এত কিছুর মাঝে গানকে আগলে ধরে এগিয়ে চলছেন পড়শী। গান নিয়ে ছুটছেন দূরন্ত গতিতে। ব্যস্ত আছেন একের পর স্টেজ শো নিয়ে। আজ এখানে তো কাল ওখানে, গান শুনিয়ে শ্রোতাদের মন ভোলাচ্ছেন তিনি।

পড়শী বলেন, ‘এখন স্টেজ শোয়ের সময়। শো নিয়েই এখন ব্যস্ত আছি। কিছুদিন আগে নতুন কয়েকটি মৌলিক গান কণ্ঠে তুলেছি। এর মধ্যে আমার কথা ও সুরের একটি গান আছে। দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও নিজের কথা ও সুরে গান তৈরি করলাম। খুব শিগগিরই গানটি মিউজক ভিডিও আকারে প্রকাশ করা হবে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি একটি নজরুলের গানও কণ্ঠে তুলেছি। এটিও মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ করা হবে।’

আপনার মন্তব্য দিন